কুড়িগ্রামের চিলমারীতে টি আর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের আওতায় উন্নয়নমূলক কাজের নামে অর্থ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অধিকাংশ প্রকল্পে নামমাত্র কাজ করে বিপুল পরিমাণ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, থানাহাট ইউনিয়নের মাচাবান্দা প্রামানিক পাড়ায় রাস্তা সংস্কার ও গাইডওয়াল নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত ৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকার প্রকল্পে হরিলুট হয়েছে। কয়েক ট্রলি মাটি ফেললেও প্রকল্পের গাইডওয়াল নির্মাণ করা হয়নি। একই এলাকার অন্যান্য রাস্তা সংস্কার না করেই নদী থেকে তোলা বালু-মাটি ফেলে তুলে নেওয়া হয়েছে বরাদ্দকৃত টাকা।
সরকারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তা সংস্কার প্রকল্পেও অনিয়মের চিত্র দেখা গেছে। কোনো কাজ না করেই ২ লাখ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। বজরা তবকপুর জামে মসজিদ কবরস্থান ভরাট প্রকল্পে নামমাত্র মাটি কেটে প্রায় পৌনে ৬ লাখ টাকা তোলা হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মো. জসিম উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘নিয়ম মেনে প্রকল্পের কাজ পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পূর্ণ করেছি।’ এছাড়া প্রকল্প তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, সবুজপাড়া, সাহাপাড়া ও নামাচর এলাকায় কাগুজে প্রকল্প দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
চিলমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি এবং ফোনও ধরেননি। তবে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, সরকারি অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল নিশ্চিত করা উচিত।