বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

কঙ্গোয় ইবোলার প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু ৩ হাজার ছাড়িয়েছে

কঙ্গোয় ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে।

কঙ্গোয় ইবোলার প্রাদুর্ভাবে মৃত্যু ৩ হাজার ছাড়িয়েছে

আফ্রিকার ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় মহামারী রূপ নেয়া ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণে প্রাণহানি ৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার দেশটির সরকারি তথ্যের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়।

ইবোলার মারাত্মক বুন্দিবুগিও প্রজাতির কারণে সৃষ্ট এই প্রাদুর্ভাবটি কঙ্গোর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও প্রাণঘাতী মহামারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে ৩ হাজার ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ১৮৬ জনে পৌঁছেছে।

এটি ২০১৮-২০২০ সালের প্রাদুর্ভাবকেও ছাড়িয়ে গেছে। বৈশ্বিক পর্যায়ে ২০১৪-২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ১১ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটানো মহামারীর পর এটি ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাব।

গত ১৫ মে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়া হলেও বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভাইরাসটির বিস্তার জানুয়ারির শুরু থেকেই শুরু হয়েছিল। কঙ্গো কর্তৃপক্ষ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এটি ইতোমধ্যে দেশটির ছয়টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব, স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অস্থিতিশীলতা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি জনগণের অনাস্থার কারণে আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, প্রায় ৬০ শতাংশ রোগীর মৃত্যু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের বাইরে ঘটছে।

উদ্বেগের বিষয় হলো, বুন্দিবুগিও প্রজাতির ইবোলার জন্য এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদিত কোনো কার্যকর টিকা বা চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। তবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক এইডস ভ্যাকসিন ইনিশিয়েটিভসহ বেশ কয়েকটি বৈজ্ঞানিক দল এর টিকা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সংকট মোকাবেলায় কঙ্গো কর্তৃপক্ষ সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় মার্ক-এর তৈরি ‘এরভেবো’ টিকা প্রয়োগ শুরু করেছে।

বিজ্ঞাপন