লিওনেল মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জোর জীবন ও ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনা নতুন কিছু নয়। তবে, তিনি নিজেকে শুধুমাত্র মেসির স্ত্রী হিসেবেই পরিচিত রাখতে চাননি।
২০০০-এর দশকের শেষ দিকে মডেলিংয়ে যাত্রা শুরু করেন আন্তোনেলা। সেই সময় মেসির সঙ্গে তার সম্পর্ক সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে খুব একটা আলোচনা হয়নি। কিন্তু তার আকর্ষণীয় চেহারা ও স্বাভাবিক উপস্থিতি তাকে দ্রুত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নজরে নিয়ে আসে।
২০১৬ সালে আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড রিকি সারকানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর তার মডেলিং ক্যারিয়ারে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়। এরপর থেকে তিনি ফ্যাশন দুনিয়ায় আরও পরিচিতি লাভ করেন।
পরবর্তী বছরে, ব্যবসায়িক জগতে প্রবেশ করেন আন্তোনেলা। মেসির সাবেক সতীর্থ লুইস সুয়ারেজের স্ত্রী সোফিয়া বালবির সঙ্গে অংশীদারিত্বে বার্সেলোনায় রিকি সারকানির প্রথম ইউরোপীয় বুটিক চালু করেন।
বুটিকের উদ্বোধনে বার্সেলোনার বিভিন্ন তারকা ফুটবলার উপস্থিত ছিলেন। এভাবে তিনি নিজেকে পেশাগতভাবে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
আন্তোনেলার ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুধু ফ্যাশনেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি আর্জেন্টিনায় শিশুদের পোশাকের ব্র্যান্ড ‘এনফ্যান্স’র সহ-মালিক এবং ‘সুপারমার্কেট ইউনিকো’ নামে একটি সুপারমার্কেট চেইন পরিচালনার সঙ্গেও যুক্ত।
আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে নিয়মিত কাজ করছেন আন্তোনেলা। ২০২৩ সালে 'কেসটিফাই' এর সঙ্গে একটি বিশেষ কালেকশন বাজারে আনেন। এছাড়া অ্যাডিডাস, অ্যালো ইয়োগা এবং স্টিলা ম্যাককার্টনির মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মেসির সঙ্গে প্রথমবারের মতো অ্যাডিডাস এসেনশিয়ালসের প্রচারণার অংশ হিসেবে আসেন আন্তোনেলা, যা তাদের প্রথম যৌথ প্রকল্প।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা ৩ কোটি ৯০ লাখের বেশি। সেখানে তিনি পারিবারিক জীবন, ব্র্যান্ড প্রচারণা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেন।
এত বড় তারকা হওয়ার পরেও আন্তোনেলা বিনয়ী ও মাটির মানুষ হিসেবে পরিচিত। মেসির স্ত্রী হিসেবে পরিচিতি তার জীবনের বড় পরিচয় হলেও, ব্যবসা ও ক্যারিয়ারের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে তার পরিচয়ের পরিধি আরও বিস্তৃত।