মাইকেল জ্যাকসন, পপ সংগীতের কিংবদন্তি, ২০০৯ সালের ২৫ জুন আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৫০ বছর। তার মৃত্যুতে সারা বিশ্ব স্তব্ধ হয়ে যায়।
জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫৮ সালের ২৯ আগস্ট, আমেরিকার ইন্ডিয়ানার গ্যারি শহরে। জোসেফ ও ক্যাথরিন জ্যাকসন দম্পতির সপ্তম সন্তান হিসেবে বেড়ে ওঠেন তিনি। পাঁচ বছর বয়সে ভাইদের সাথে গঠন করেন "দ্য জ্যাকসন ফাইভ"। ১৯৬৯ সালে বিখ্যাত 'মোটাউন রেকর্ডস'-এর সাথে চুক্তি করে রাতারাতি তারকা হয়ে ওঠেন।
১৯৭৯ সালে প্রকাশিত তার অ্যালবাম "অফ দ্য ওয়াল" এবং ১৯৮২ সালে "থ্রিলার" অ্যালবামটি তাকে সংগীতের ইতিহাসে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করে। "থ্রিলার" আজও বিশ্বের সর্বকালের সর্বোচ্চ বিক্রিত অ্যালবাম।
মাইকেলের মৃত্যু তদন্তে পুলিশ আবিষ্কার করে যে, তার মৃত্যুর কারণ ছিল 'প্রোপোফল' নামক একটি অ্যানেস্থেটিক, যা তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডক্টর কনরাড মারে নিয়মিতভাবে তাকে দিয়েছিলেন।
মাইকেল দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক অনিদ্রা রোগে ভুগছিলেন এবং তার চিকিৎসক তাকে এই বিপজ্জনক ওষুধটি চিকিৎসা শাস্ত্রের লঙ্ঘন করে দিতেন। ২০১১ সালে ডক্টর মারে "ইনভলান্টারি ম্যানস্লটার" অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন এবং তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মাইকেলের মৃত্যুর পর থেকেই বিভিন্ন কনসপিরেসি থিওরি সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বিশ্বাস করেন এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। যদিও এসব দাবির পক্ষে কোনো শক্ত প্রমাণ নেই, তথাপি তার বিদায় নিয়ে আলোচনা থেমে নেই।
মাইকেল জ্যাকসন হয়তো আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার সঙ্গীত, নাচ এবং প্রতিভা আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে অমলিন।