লিওনেল মেসি জাতীয় দলের জার্সি পরিধান করে ২১ বছরের দীর্ঘ পথচলা শেষ করেছেন। তিনি জানান, "আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজেকে সম্পূর্ণ উজাড় করে দিয়েছি। আমার আর কিছুই দেওয়ার বাকি নেই।"
মেসির ক্যারিয়ারে রয়েছে ২০৭ ম্যাচ, ১২৫ গোল এবং ৬৮ অ্যাসিস্ট। তিনি জিতেছেন একটি বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা এবং একটি ফিনালিসিমা। তবে, তার এই সাফল্য সম্ভব হতো না যদি স্পেনের ফুটবল ফেডারেশন তাকে দলে নেওয়ার চেষ্টা না করতো।
২০০০ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে রোজারিও থেকে স্পেনে পাড়ি জমান মেসি। বার্সেলোনার লা মাসিয়ায় তার প্রতিভা নিয়ে আলোচনা চলছিল, কিন্তু আর্জেন্টিনার কোচরা তখন তাকে জানতেন না। তবে স্পেনের কর্মকর্তারা তার খোঁজ রাখছিলেন।
২০০৩ সালের মে মাসে, মেসির এজেন্ট একটি ভিএইচএস টেপ আর্জেন্টিনা দলের সহকারী কোচের কাছে পাঠান। সেই টেপে মেসির খেলার কিছু হাইলাইট ছিল। আর্জেন্টিনা দলের কোচ মার্সেলো বিয়েলসা টেপটি দেখে মেসির প্রতিভা সম্পর্কে অবগত হন এবং তাকে দলে নেওয়ার তাগিদ দেন।
তবে, ২০০৫ সালের অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর একটি রাঁধুনির মন্তব্য মেসির ভাগ্য পরিবর্তন করে। রাঁধুনি বলেন, "বার্সেলোনায় খেলা এক প্রতিভাবান ছেলেকে যদি আর্জেন্টিনা দলে নিত, হয়তো ম্যাচটা আর্জেন্টিনাই জিতত।"
এই মন্তব্য শুনে তোকাল্লি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তিনি মেসির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করেন। মেসির বাবা জানান, "আমার ছেলে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলতে চায়।"
অবশেষে, ২০০৪ সালের ২৯ জুন প্যারাগুয়ের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে মেসি বদলি হিসেবে নেমে গোল করেন। এরপর ২০০৫ সালে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে তার অসাধারণ পারফরম্যান্সে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয়।
মেসির এই যাত্রা শেষ পর্যন্ত তাকে জাতীয় দলের মূল দলে অভিষেকের সুযোগ এনে দেয়, যা তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরু।