নেপালে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ভূমিধস দেশের সামনে বহুমাত্রিক সংকট তৈরি করেছে। এই বিপর্যয়ের ফলে প্রাণহানি ও মানবিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি দেশটির অর্থনীতিতে বড় আঘাত এসেছে।
প্রাথমিক হিসাবে, নেপাল সরকারের প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারের জন্য বিপুল অর্থায়নের প্রয়োজন হবে। কোশি নদীর ভয়াবহ বন্যা নেপালের জন্য শুধু মানবিক বিপর্যয় নয়, বরং বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জও তৈরি করেছে।
নেপাল সরকার দুর্যোগ-পরবর্তী পর্যালোচনা শুরু করেছে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নির্ধারণের জন্য। অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত আর্থিক হিসাব দেওয়া সম্ভব নয়।
এই পর্যালোচনায় অবকাঠামো, ঘরবাড়ি, জীবিকা ও পুনর্গঠনের আর্থিক প্রয়োজন গুরুত্ব পাবে। সরকার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে সহায়তা চাওয়ার পরিকল্পনা করছে।
বন্যার ফলে নেপালের পুঁজিবাজারেও প্রভাব পড়েছে। বিদ্যুৎ খাতে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা এসেছে। নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এক ডজনের বেশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোয় ক্ষতির পরিমাণ কয়েক শ কোটি রুপি ছাড়িয়ে যেতে পারে।
অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি, মানবিক সংকটের মুখে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষ। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা বাসিন্দাদের এখন ওষুধ, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় খাবারের সংকটে দিন কাটাতে হচ্ছে।
যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এবং স্থানীয় প্রশাসনের সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ায় কিছু এলাকায় লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। নেপাল সরকারের সামনে এখন জরুরি মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দ্বৈত চ্যালেঞ্জ রয়েছে।