চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক মঞ্চে আসছেন সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বার্ষিক সম্মেলনে। এই সম্মেলনটি কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে এবং দুই দিনব্যাপী চলবে।
সম্মেলনের এজেন্ডায় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসসিও’র ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই সম্মেলনটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি ও আর্থিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
এই সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘টুগেদার ফর সাসটেইনেবল পিস, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড প্রসপারিটি’। শি, পুতিন ও মোদির পাশাপাশি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পাকিস্তান, উজবেকিস্তান, বেলারুশ ও কাজাখস্তানের নেতারাও এতে অংশ নেবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান যুদ্ধগুলো আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি করছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং বলেন, এসসিও সম্মেলন চীন ও ভারতের মতো উদীয়মান শক্তিগুলোর জন্য নিজেদের বৈশ্বিক প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।
এসসিও ১৯৯৬ সালে ‘সাংহাই ফাইভ’ নামে যাত্রা শুরু করে। ২০০১ সালে সংগঠনটির নাম পরিবর্তন করে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন করা হয়। বর্তমানে এসসিও’র সদস্য দেশগুলোতে বিশ্বের প্রায় ৪৩ শতাংশ মানুষ বসবাস করে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় ২৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।
সম্মেলনে নিরাপত্তা ইস্যু ছাড়াও অর্থনৈতিক একীভূতকরণ ও আর্থিক সহযোগিতার কাঠামো নিয়ে আলোচনা হতে পারে। গত বছর চীনের তিয়ানজিন সম্মেলনে এসসিও উন্নয়ন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছিল। এবারের সম্মেলনে এসসিও ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, এসসিও ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ও এসসিও ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড নিয়ে আলোচনা হবে।