জয়পুরহাটের কালাইয়ে স্ত্রীকে মারধর করে হত্যার অভিযোগে স্বামী মেহেদী হাসান শাপলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাছুদা বেগম।
মাছুদা গুরুতর আহত অবস্থায় আট দিন হাসপাতালে থাকার পর মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বছরের মণ্ডল বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ রাতেই অভিযুক্ত শাপলাকে গ্রেপ্তার করে। শনিবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত মেহেদী হাসান শাপলা আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের হারুঞ্জা গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ প্রামাণিকের ছেলে। নিহত মাছুদা বেগম ক্ষেতলাল উপজেলার দাশড়া খাঁপাড়া গ্রামের মৃত দিলবর মণ্ডলের মেয়ে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রায় ১৫ বছর আগে মেহেদী ও মাছুদার বিয়ে হয় এবং তাদের ১৩ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। একপর্যায়ে তাদের বিচ্ছেদও হয়, তবে বিচ্ছেদের এক বছর পর তারা আবার বিয়ে করে একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন।
গত ১৪ আগস্ট দুপুরে মাছুদার মেয়ে বাড়িতে না থাকায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, মেহেদী তার স্ত্রীকে বেদম মারধর করেন, যার ফলে মাছুদা জ্ঞান হারিয়ে ঘরের মেঝেতে পড়ে যান।
পরে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে ওই দিনই বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহতের ভাই বছির মণ্ডল বলেন, ‘আমার বোনকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। আমি বোন হত্যার বিচার চাই।’ কালাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) দীপেন্দ্র নাথ সিংহ জানান, ‘চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাছুদার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে শুক্রবার রাতেই মেহেদী হাসান শাপলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’