মাদারীপুরের তরুণ মো. সাগর মিয়া অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সময় লিবিয়া থেকে নিখোঁজ হয়েছেন। গত ১০ মাস ধরে তার পরিবারের কাছে কোনো খবর নেই। সাগরের পরিবার জানায়, লিবিয়ার একটি বন্দিশালা থেকে মুক্ত করতে তাদের কাছ থেকে ৯ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল।
সাগর মাদারীপুর সদর উপজেলার খোঁয়াজপুর ইউনিয়নের পখিরা এলাকার কৃষক খবির মোল্লার ছেলে। তিনি ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তার মা বেলাতুননেছা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে মাদারীপুর আদালতে মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে দালালদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উন্নত জীবনের আশায় সাগর বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মাদারীপুর শহরের সৈদারবালী এলাকার দালাল নামজুল ব্যাপারীর প্রলোভনে তিনি ইতালি যাওয়ার জন্য ২৩ লাখ টাকার চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী, গত বছরের ২ নভেম্বর পরিবারের প্রথম কিস্তির টাকা পরিশোধ করা হয়।
এরপর সাগরকে আকাশপথে সৌদি আরব নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দুই দিন থাকার পর তাকে মিসর হয়ে লিবিয়ায় পাঠানো হয়। লিবিয়ার উপকূল থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার উদ্দেশ্যে সাগরকে একটি নৌকায় তুলে দেওয়া হয়। পরে নৌকাটি সন্ত্রাসী চক্রের হাতে আটক হয় বলে জানায় দালালরা।
সাগরের পরিবারের অভিযোগ, আটক সাগরের মুক্তির জন্য ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে ৯ লাখ টাকা দেওয়ার পরও সাগরের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বেলাতুননেছা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “মামলা করেছি, কিন্তু দালালরা আমাকে হুমকি দিচ্ছে। আমি বিচার চাই, ছেলেকে ফেরত চাই।” স্থানীয় বাসিন্দা নাসির ইসলাম জানান, সাগরের পরিবার সবকিছু শেষ করে দিয়েছে, তবুও তার সন্ধান না পাওয়ায় কষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয় দালাল নামজুল ব্যাপারী গোলাম মওলার হয়ে কাজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গোলাম মওলার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও তিনি ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, মানবপাচার রোধে তারা চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং তদন্ত চলছে।