বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
ব্রেকিং
রাজনীতি

বিএনপি সরকারের ৬ মাস: প্রশাসনে দলীয়করণ ও স্বচ্ছতার চিত্র

বিএনপি সরকারের ছয় মাসে প্রশাসনে দলীয়করণ ও স্বচ্ছতার চিত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিএনপি সরকারের ৬ মাস: প্রশাসনে দলীয়করণ ও স্বচ্ছতার চিত্র

বিএনপি সরকারের ক্ষমতার ছয় মাসে প্রশাসনে দলীয়করণ এবং স্বচ্ছতার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত ২০ থেকে ২৫ বছরে প্রশাসন তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়েছে: আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জামায়াত। সাবেক সচিব একেএম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, এই সময়ে প্রশাসনে দলীয় নিয়োগের নজীর বেড়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম জানান, দলীয় নিয়োগের কারণে রাষ্ট্র ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, গত সময়ে প্রশাসনে চরম দলীয়করণের ফলে দক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের অভাব দেখা দিয়েছে।

সরকার গঠনের পর বিএনপি কতটা প্রশাসনিক সংস্কার গ্রহণ করেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ আমলে প্রশাসনে চরম দলীয়করণের নজীর ছিল। অন্তবর্তী সরকার প্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করেছিল, কিন্তু তার সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি।

বর্তমানে সচিব ও সচিব পদ মর্যাদার ৭৯ জনের মধ্যে ২৩ জনই দলীয় মতাদর্শের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত। অন্যদিকে, ৭০-এর বেশি কর্মকর্তা ভিন্ন মতাদর্শের কারণে কর্মহীন রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়কার কর্মকর্তাদের ছাঁটাই করা হবে।

সম্প্রতি ১২ অধিদফতর ও করপোরেশনে দলীয় পদধারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম মনে করেন, দলীয়ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জনগণের সেবা দেওয়া কঠিন হবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রশাসনে দলীয় নিয়োগের বিষয়টি ১৮২৯ সালে শুরু হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে এটি সংশোধিত হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা বলেন, দুই দেশের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। অধ্যাপক কাজী মারুফুল বলেন, বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক সততা ভেঙে পড়েছে, যা প্রশাসনের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করছে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, সামনের দিনগুলোতে প্রশাসনের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করা হবে এবং তিনি দাবি করেন, প্রশাসন এখন 'নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে'।

বিজ্ঞাপন