দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ফের অনুষ্ঠিত হচ্ছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। আগামী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হবে ভোট। ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর, বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে প্রথম ও শেষবারের মতো রাষ্ট্রপতি পদের জন্য সরাসরি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপির আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের বদরুল হায়দার চৌধুরী পান ৯২ ভোট।
সেই নির্বাচনের পর গত ৩৫ বছরে আটবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হলেও কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিল না। তবে, মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর এবারের নির্বাচনে বিরোধী দলও অংশগ্রহণ করছে। জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী এলডিপি চেয়ারম্যান অলি আহমদ এবং ক্ষমতাসীন বিএনপি প্রার্থী করেছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে।
নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসে ভোট দেবেন এবং নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা তাঁদের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেবেন।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৪৯ জন, যার মধ্যে ৫০ জন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য। তবে, ভোটের প্রক্রিয়া নিয়ে একটি বিতর্ক উঠেছে। প্রকাশ্যে ভোট হওয়ায় যদি কোনো এমপি দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তাহলে কি তাঁর সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে? এ বিষয়ে সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এমপিরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারেন না।
অন্যদিকে, সংসদবিষয়ক গবেষক অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন ও অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ মনে করেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন প্রণয়নের অংশ নয়, তাই এখানে এমপি পদ বাতিল হওয়ার আইনি সুযোগ নেই। বিএনপির সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাঁদের প্রার্থীর জয় প্রায় নিশ্চিত।