রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

হরমুজে জাহাজ চলাচল ৪৪% বেড়েছে, উত্তেজনা অব্যাহত

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ৪৪% বেড়েছে, তবে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

হরমুজে জাহাজ চলাচল ৪৪% বেড়েছে, উত্তেজনা অব্যাহত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল একদিনে ৪৪ শতাংশ বেড়েছে। সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ১৩টি জাহাজ এই জলপথ দিয়ে চলাচল করেছে, যা আগের দিন ছিল ৯টি।

তবে, একদিনে চলাচল বেড়ালেও, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের সংখ্যা এখনও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম। চলমান সংঘাত এবং প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দাবির কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

মেরিন ট্রাফিক জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সাতটি জাহাজ আরব উপসাগরে প্রবেশ করেছে এবং ছয়টি সেখান থেকে বের হয়েছে। এর মধ্যে নয়টি জাহাজ ইরানের নির্ধারিত রুট ব্যবহার করেছে। চলাচল করা ১৩টি জাহাজের মধ্যে দুটি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত, তিনটি ‘শ্যাডো’ বা পরিচয় গোপন করে চলাচলকারী জাহাজ এবং আটটি অন্যান্য জাহাজ ছিল।

একই দিনে, লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালিতেও জাহাজ চলাচল কিছুটা বেড়েছে। সেখানে মোট ২৯টি জাহাজ চলাচল করেছে, এর মধ্যে ১৮টি লোহিত সাগরে প্রবেশ করেছে এবং ১১টি বের হয়েছে।

বিশ্লেষকরা জানান, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। শুক্রবার পর্যন্ত হরমুজে জাহাজ চলাচলের দৈনিক গড় প্রায় ১২টি পণ্যবাহী জাহাজেরও নিচে ছিল।

এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবু ধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের দুটি জাহাজে হামলা হয়েছে, এ ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করা হয়েছে। তবে ইরান দাবি করেছে যে, তারা হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং মার্কিন প্রশাসনের দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন যে, ইরান 'এসিমেট্রিক ওয়ারে' প্রবেশ করেছে এবং হরমুজকে একটি গুরুত্বপূর্ণ 'ওয়েপন' হিসেবে ব্যবহার করছে।

বিজ্ঞাপন