গত ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় উৎসবের আমেজ ছিল না। বরং সেখানে চরম থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বেলুচিস্তান পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটাসহ বিভিন্ন স্থানে দোকানপাট ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো বন্ধ ছিল।
সাধারণ মানুষের চলাচলও ছিল চোখে পড়ার মতো কম। কোয়েটা, বোলান ও হারনাইয়ে একাধিক সশস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্প, সরকারি কার্যালয় ও সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোর চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল।
কোয়েটা ও বেলুচিস্তানের কিছু নির্বাচিত স্থানে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান পালিত হয়, তবে তা ছিল অত্যন্ত সীমিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোয়েটার জারঘুন কলোনিতে একটি অনুষ্ঠানে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা একাধিক রকেট ও গ্রেনেড হামলা চালায়, যার ফলে অন্তত আটটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে এ ঘটনায় হতাহতের আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে বোলান জেলার এন-৬৫ মহাসড়কের কুম্ব্রি ব্রিজের কাছে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যার ফলে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া হারনাইয়ে পুলিশের একটি তল্লাশিচৌকিতে বিস্ফোরক হামলা চালানো হয়।
বেলুচ ন্যাশনাল মুভমেন্টের (বিএনএম) চেয়ারম্যান ড. নাসিম বেলুচ পাকিস্তান সৃষ্টির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান পাকিস্তান গঠনের জন্য কোনো উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক আন্দোলন হয়নি।’
তিনি তরুণ বেলুচদের উদ্দেশে বলেন, ‘পাকিস্তান সৃষ্টির ঘটনাকে কেবল মুসলিম লীগ বা ব্রিটেনের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেখা উচিত নয়।’
বিএনএম চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘দেশভাগ এই অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংস ডেকে এনেছে এবং ধর্মের ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠনের এই সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে।’