সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে পারিবারিক কলহের কারণে নিজের ছেলে-মেয়ে হত্যার অভিযোগে কামরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ঘুমের ওষুধ খাইয়ে সন্তানদের হাওরে ফেলে হত্যা করেন।
গত ৭ আগস্ট, কামরুল স্ত্রী ও পরিবারের সাথে কলহের পর সাত বছরের ছেলে মুহাদ্দিস এবং পাঁচ বছরের মেয়ে তুলনাকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে সিলেটে যান। যাত্রাপথে তিনি তুলনাকে পানিতে ফেলে হত্যা করেন। পরে, দুই দিন আত্মগোপনে থাকার পর, ১২ আগস্ট, মুহাদ্দিসকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে হাওরে ফেলে দেন।
ঘটনার পর কামরুল বাড়িতে ফিরে এসে সন্তানদের নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজান। পরিবারের সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ মধুপুর গ্রামে গিয়ে কামরুলকে আটক করে, তখন তিনি নিজ সন্তানদের হত্যার কথা স্বীকার করেন।
এদিকে, ঘটনার পর শান্তিগঞ্জ উপজেলার একটি হাওর থেকে অজ্ঞাত এক কন্যাশিশুর এবং সদর উপজেলার গোবিন্দপুরের হাওর থেকে এক ছেলে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার পর জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, কামরুলের পারিবারিক কলহের কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। তিনি বলেন, "ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে ওই দুটি শিশুকে হাওরে ফেলে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।"
স্থানীয়রা কামরুলের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। নিহত শিশুদের মা আফরোজা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "আমি আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই।"
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ জানান, উদ্ধার হওয়া শিশুদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।