বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে লোডশেডিংয়ের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে, যেখানে ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াটের লোডশেডিং ঘটেছে। বর্তমানে দেশের ৪১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানি সংকট ও মেরামতের কারণে বন্ধ রয়েছে।
গত রোববার রাত ৩ টায় সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট, যা মাত্র ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে দুইবার রেকর্ড ভেঙেছে। ২০২৩ সালের জুনে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৪১৯ মেগাওয়াট, যা বর্তমান সংকটের তুলনায় অনেক কম।
বিদ্যুৎ সংকটের প্রধান কারণ গ্যাসের তীব্র সংকট। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাসের চাহিদা ২৫২ কোটি ঘনফুট হলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭০ কোটি ঘনফুট।
এছাড়া, ২১ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনালের দুর্ঘটনা গ্যাস সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলেছে। এই দুর্ঘটনার ফলে দৈনিক ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
কোলে সংকটের কারণে পটুয়াখালী বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। ভারতের আদানি পাওয়ার থেকেও বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে গেছে।
সাধারণ মানুষ ও শিল্প খাত এই সংকটের খেসারত দিচ্ছে। সিলেটের টুকের বাজারে বিদ্যুতের দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা চরম সমস্যায় পড়েছেন।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিমের মতে, বিদেশি এলএনজি ও আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিতে হবে।