বুধবার, ০৫ আগস্ট, ২০২৬
ব্রেকিং
অর্থনীতি

বিদ্যুৎ সংকট: ২৯ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতা, কেন লোডশেডিং?

বিদ্যুৎ সংকটের কারণে চলছে তীব্র লোডশেডিং, উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না।

বিদ্যুৎ সংকট: ২৯ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতা, কেন লোডশেডিং?

দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে চলছে তীব্র লোডশেডিং। শহর থেকে গ্রাম, সবখানে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও, চাহিদা মেটাতে পারছে মাত্র ১৫ হাজার মেগাওয়াট।

গত ১ আগস্ট বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল ২ হাজার ১৭৪ মেগাওয়াট, যা রবিবার ভোরে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছায়। তালিকাভুক্ত ১৪৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ৬২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন জ্বালানি সংকটে রয়েছে।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনার পর পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ ১৭ শতাংশ কমে গেছে। গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও, সরবরাহ নেমে এসেছে ২১৫ কোটি ঘনফুটে।

গ্যাস না থাকায় ১২ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াটেরও কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ময়মনসিংহের চালকল মালিকরা ৬-৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না পেয়ে কর্মচারীদের বসিয়ে পারিশ্রমিক দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। শিল্পাঞ্চলগুলোর কারখানাগুলো ডিজেল জেনারেটর চালাতে বাধ্য হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংকটের মূল কারণ হিসেবে কয়লা সংকট এবং ব্যয়বহুল তেলের ব্যবহার চিহ্নিত হয়েছে। পিডিবি এখন ফার্নেস অয়েল এবং ডিজেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো চালাচ্ছে, ফলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বেড়ে গিয়ে পৌনে ৮ টাকায় পৌঁছেছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও, অলস বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছে। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অলস বসে থাকা কেন্দ্রগুলোকে ৪৪ হাজার কোটি টাকা ভাড়া দেওয়া হয়েছে।

পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, এফএসআরইউ টার্মিনাল আংশিক মেরামত শেষে ১০ আগস্টের পর গ্যাস সরবরাহ বাড়তে পারে, তবে স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে অবকাঠামো তৈরি করার নীতি পরিবর্তন না হলে, লোডশেডিংয়ের সমস্যা অব্যাহত থাকবে।

বিজ্ঞাপন