চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস সংকট ও বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে শিল্প মালিকরা বড় ধরনের ভোগান্তিতে পড়েছেন। পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে দিনের অনেকটা সময় উৎপাদন বিহীন কাটাচ্ছেন তারা।
এদিকে, গ্যাস সংকটের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়ও মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের, এবং রাস্তায় পরিবহন সংকটে দুর্ভোগে পড়ছেন তারা। রান্নার গ্যাসের অভাবেও ভোগান্তি বাড়ছে বাসাবাড়িতে।
চট্টগ্রামে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি, কিন্তু জাতীয় গ্রীড থেকে ২০০ মিলিয়নেরও কম গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১০০ মিলিয়ন চলে যাচ্ছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সার কারখানায়। কর্ণফুলি গ্যাস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রীজের সভাপতি আমিরুল হক বলেন, 'এটা একটা ভঙ্গুর অবস্থা। সমাধান করতে হবে, এই অবস্থার পরিবর্তন আনতে হবে।'
উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে রপ্তানিমুখী খাতেও সংকট দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন জানান, 'ক্রেতা যদি পণ্য না পায়, তাহলে উভয়েরই বড় ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা আছে।'
গ্যাস সংকটের কারণে সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে দীর্ঘ যানবাহনের সারি দেখা যাচ্ছে। ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, গ্যাস সংকটের কারণে তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
এক সিএনজি চালক জানান, '৫টা থেকে লাইন দিয়েছি, কিন্তু এতক্ষণ পরও গ্যাস পাচ্ছি না।'
এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। ফলে শহরের অধিকাংশ এলাকায় লোডশেডিং বেড়ে গেছে।