২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় ৬.২০ শতাংশ কম।
এবারের পরীক্ষায় প্রায় ৭ লাখ শিক্ষার্থী পাস করতে ব্যর্থ হয়েছে। জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন, যা আগের বছরের তুলনায় ২২ হাজার ৩৫৬ জন কম। ৩১২টি স্কুল-মাদ্রাসার একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি, যার মধ্যে ২২৬টি প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসা।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে সবচেয়ে বেশি বিপর্যয় ঘটেছে। মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাসের হার মাত্র ৪৮.৭৪ শতাংশ, যেখানে বিজ্ঞান বিভাগের পাসের হার ৮০.৬৪ শতাংশ।
শিক্ষাবিদরা মনে করেন, গ্রামীণ এলাকায় ইংরেজি ও গণিতের যোগ্য শিক্ষকের অভাবই এই ফলাফলের পেছনের মূল কারণ। করোনার লকডাউন এবং শিক্ষাক্রমের পরিবর্তনের কারণে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি বেড়েছে।
বোর্ড কর্মকর্তাদের মতে, এবারের পরীক্ষায় কঠোরতা বজায় রাখা হয়েছে এবং 'ওভারমার্কিং' করা হয়নি। খাতা দেখার জন্য শিক্ষকদের সময় বাড়ানো হয়েছে এবং কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে, যা নকলের সুযোগ কমিয়ে এনেছে।
শিক্ষাবিদ রাশেদা কে. চৌধূরী শহর ও গ্রামের শিক্ষার মানের বৈষম্যের কথা উল্লেখ করেছেন। গ্রামীণ অঞ্চলে বাংলা শিক্ষকদের দ্বারা ইংরেজি ও গণিত পড়ানো হচ্ছে, যা শিক্ষার মানকে প্রভাবিত করছে।
সমস্যার সমাধানে শিক্ষাবিদরা বিশেষ সামার ক্লাস এবং গ্রামীণ অঞ্চলে দক্ষ শিক্ষকদের নিয়োগের সুপারিশ করেছেন।