২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৯টি শিক্ষা বোর্ডের ৩০০টির বেশি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। শিক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি মূলত শিক্ষক সংকট, অনিয়মিত উপস্থিতি এবং মেধাবীদের অন্যত্র চলে যাওয়ার কারণে ঘটেছে।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার তালতলা উচ্চ বিদ্যালয়, যা ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০২৪ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায়, এবার প্রথমবারের মতো ১২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪ জন, পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪ জন এবং পূর্ব কুমোরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। সংশ্লিষ্টরা জানান, বাল্যবিয়ে এবং শিশুশ্রমের উপস্থিতির হার কম থাকার পাশাপাশি শিক্ষক সংকটের কারণে ফল খারাপ হয়েছে।
কুড়িগ্রামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক বলেন, "এবারই প্রথম পরীক্ষা দিয়েছি। আমরা চেষ্টা করেছি।" অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক জানান, "শিক্ষকের ঘাটতি ছিল, এ কারণেই আমাদের রেজাল্টটা খারাপ হয়েছে।"
দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফল বিপর্যয় ঘটে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, "অনেক প্রতিষ্ঠানে একজন বা দুজন পরীক্ষার্থী রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান কীভাবে চলছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।"
বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ১,৫১৫টি স্কুল থেকে পরীক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এর মধ্যে ৫টি স্কুলে কেউই পাস করেনি। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সচিব মো. আব্দুস সালাম বলেন, "যদি যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারে, তবে একরকম; অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" গত বছর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে শতভাগ ফেল না থাকলেও এবার পাঁচটি বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করেনি।