জনপ্রিয় গানের দল ‘জলের গান’র সংগীতশিল্পী রাহুল আনন্দ বর্তমানে ফ্রান্সে বসবাস করছেন। ৫ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন রাজধানীর ধানমণ্ডিতে তাঁর বাড়ি ও স্টুডিওতে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।
এই হামলার সময় রাহুল, তাঁর স্ত্রী চিত্রশিল্পী উর্মিলা শুক্লা এবং ১৩ বছরের পুত্র তোতাকে নিয়ে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের হতে বাধ্য হন। হামলার পর তিনি যে বাড়িতে আশ্রয় নেন, সেখানেও ৭ আগস্ট হামলা হয়।
রাহুল আনন্দ সামাজিকমাধ্যমে একটি পোস্টে ওই দিনগুলোর স্মৃতি তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, “দ্বিতীয়বার আগুনের ভেতর থেকে স্ত্রী-পুত্র নিয়ে বের হয়েছি। সেসময় কোথাও আশ্রয় পাচ্ছিলাম না।”
তিনি জানান, রাত ২.৩০ মিনিটে এক বন্ধু তাঁকে আশ্রয় দিয়েছিল, কিন্তু দুই দিন পর সেই আশ্রয়ও নিরাপদ ছিল না। হামলার সময় তিনি ও তাঁর পরিবার মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ছিলেন।
রাহুল বলেন, “কালো ভারী ধোঁয়ায় নীল হয়ে গিয়েছিল আমার শিশুপুত্র। টের পাচ্ছিলাম দমের সাথে ধোঁয়া ঢুকে শ্বাসনালী পুড়িয়ে দিচ্ছিল।” ওই সময় তাঁর স্ত্রী উর্মিলা বলছিলেন, “রাহুল, আমি আর পারছি না!”
রাহুল আনন্দ বলেন, “সেই ভয়ঙ্কর কালো ধোঁয়ার ভেতর থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাই।” তিনি জানান, এখন পর্যন্ত নবম আশ্রয়ে আছেন এবং এখনও ঘর বাঁধেননি।
তিনি তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, “এই প্রথম লিখতে শুরু করেছি, সব লিখব। যা লিখব, সত্য লিখব।” ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে রাহুল রবীন্দ্রসরোবরে দাঁড়িয়েছিলেন।
৫ আগস্টের হামলার ফলে তাঁর বসতবাড়ি এবং হাজার হাজার হস্তনির্মিত বাদ্যযন্ত্র পুড়ে যায়। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ঢাকা সফরে এসে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রাহুলের বাড়িতে গিয়েছিলেন। এখন তা ছাইভস্ম ছাড়া কিছুই নয়।