বাংলাদেশ পুলিশ সারা দেশে পুনরায় অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করেছে, যা সম্ভাব্য নাশকতা ও নিরাপত্তার ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। গত ১ আগস্টের প্রথম দফার পর ৭ আগস্ট রাতে দ্বিতীয় দফার জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, সম্ভাব্য বোমা হামলার খবর পাওয়ার পর নিরাপত্তা জোরদারের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগস্ট মাসে অন্তত চারটি বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে।
প্রথমত, ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ-সংগঠনগুলোর ঝটিকা মিছিলের আশঙ্কা করা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) নতুন করে সক্রিয় হতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।
বাড়তি সতর্কতার আরেকটি কারণ হলো দেশের অভ্যন্তরে উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা। আনসার আল ইসলামসহ অন্যান্য উগ্রপন্থি সংগঠনের সম্ভাব্য অপতৎপরতা নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে ১১টি স্থায়ী চেকপোস্টের পাশাপাশি নতুন করে ৫৩টি অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়েছে, ফলে ঢাকায় মোট চেকপোস্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪টিতে।
সারা দেশে ৩৩০টি অস্থায়ী চেকপোস্টের পাশাপাশি আরও ১ হাজার ৪৫টি নতুন চেকপোস্ট সক্রিয় করা হয়েছে। রাজধানীসহ ৮০০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ডিএমপির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত রাজধানী থেকে ৩ হাজার ৫২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮ আগস্ট ৪৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বনানীতে মশাল মিছিল বের করার চেষ্টা করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের ৭ জন এবং গুলশানে গোপন বৈঠকের অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে, এটি কি রাজনৈতিক কর্মসূচি নাকি বড় ধরনের জঙ্গি নাশকতার প্রমাণ রয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, যা জনমনে কৌতুহল সৃষ্টি করেছে।