সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬’। এই আইনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে গুমের শিকার ব্যক্তির স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’।
সংগঠনটির মতে, গুমের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের ওপর ন্যস্ত করাকে ‘স্বার্থের সংঘাতের ঝুঁকি’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) এক বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘আইনটির কার্যকারিতা মূলত তদন্তব্যবস্থার স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতার ওপর নির্ভর করছে।’
মায়ের ডাক জানায়, ‘গুমের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে, অথচ একই আইনে পুলিশকে সম্ভাব্য অভিযুক্ত বাহিনীগুলোর একটি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে স্বার্থের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়।’
তারা আরও যোগ করে বলেন, ‘এতে তদন্ত ব্যর্থ হলে ভুক্তভোগী পরিবার আইনগত স্বীকৃতি ও ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হবে।’ সংগঠনটি ২১নং ধারাতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যেখানে মিথ্যা অভিযোগের জন্য অভিযোগকারীকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
মায়ের ডাক মনে করে, পুরো আইন পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। আইনটির মূল কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে ১৪ ধারা সংশোধনের মাধ্যমে গুমের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংস্থার হাতে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।
তারা বিশ্বাস করে, এই সংশোধনের মাধ্যমে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’ গুমের সংস্কৃতির অবসান এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।
গত ৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।