ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ১১ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এই হামলার পর সৌদি কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে যে, হুথি এবং ইরানপন্থি ইরাকি মিলিশিয়ারা দেশটিতে সমন্বিত হামলা চালাতে পারে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালিকি জানান, হামলায় সাত সৌদি নাগরিক, এক ইয়েমেনি, দুই মিশরীয় এবং এক পাকিস্তানি নাগরিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চার বছরের এক শিশুও রয়েছে, যার শরীরের ২০ শতাংশ পুড়ে গেছে।
মালিকি অভিযোগ করেন, ইরান-সমর্থিত হুথিরা বেসামরিক এলাকায় নির্বিচারে হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করছে। তিনি জানান, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সৌদি এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সৌদি, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, হুথি ও ইরাকি মিলিশিয়ারা শিগগিরই সৌদি আরবের বেসামরিক স্থাপনায় সমন্বিত হামলা চালাতে পারে। সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে জ্বালানি অবকাঠামো, বন্দর ও বিমানবন্দর উল্লেখ করা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।
সৌদি ওই কর্মকর্তা জানান, সম্ভাব্য হামলার হুমকি উদ্বেগজনক হলেও ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রিয়াদ। তবে পরিকল্পিত হামলাগুলো কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার নাজরান বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে হুথিরা। এর আগে সৌদি আরবের সামরিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনা এবং জাহাজ চলাচলের ওপরও হামলা চালিয়েছে ইরানপন্থি গোষ্ঠীটি।
গত ২৯ জুলাই সৌদি আরব জানিয়েছিল, দেশটির তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার জন্য দায়ী ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরাকে হামলা চালিয়েছে তারা।