শনিবার, ০৮ আগস্ট, ২০২৬
ব্রেকিং
অর্থনীতি

হরমুজে ইরানের ফি পরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক তেলের দাম বেড়েছে

হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ইরানের ফি পরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে।

হরমুজে ইরানের ফি পরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক তেলের দাম বেড়েছে

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ইরানের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা ও জাহাজ চলাচলে ফি নেওয়ার পরিকল্পনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় দুপুরের দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৫ সেন্ট বা দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৮৩ দশমিক ২৪ ডলারে দাঁড়ায়।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৪২ সেন্ট বা দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৭৭ দশমিক ৭১ ডলারে ওঠে। এর আগে বৃহস্পতিবারও তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলারের বেশি বেড়েছিল।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজ নিষিদ্ধ করতে ইরান একটি বিল পর্যালোচনা করছে, যা বাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সম্ভাব্য সমাধানের আশা তৈরি হলে তেলের দাম কমেছিল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। রিস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক লিন ইয়ে বলেন, ইরানের প্রকাশিত খসড়া পরিকল্পনার প্রতিক্রিয়ায় তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

এক ইরানি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে পণ্য পরিবহনের মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত ফি নেওয়ার পরিকল্পনা করছে তেহরান। অন্যদিকে, ওমান প্রায় ৩ শতাংশ ফি নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ফি আরোপের পক্ষে নয়।

চারটি শিল্প খাতের সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে কঠোর বিমা শর্ত থাকায় প্রস্তাবিত চুক্তিটি বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না।

এদিকে, ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান বা পে-রোলসের তথ্যের দিকে। শুক্রবার প্রকাশিত এই তথ্যের ওপর সুদের হার নিয়ে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত মিলতে পারে।

বিজ্ঞাপন