বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রশ্নে ইরান নতুন শর্ত সামনে এনেছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর জানান, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানকে হুমকি না দেওয়ার শর্তে হরমুজ খুলতে হবে।
ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের বন্দরের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করতে হবে। তৃতীয়ত, যুদ্ধে ইরানের ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সবশেষে, ইরানের ওপর থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ 'নিঃশর্তভাবে' ছাড়তে হবে।
এই দাবিগুলো সামনে আসার পর হরমুজ ইস্যুতে আলোচনার নতুন মোড় দেখা যাচ্ছে। ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ পরিচালনা নিয়ে সমঝোতা আলোচনা এগোচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানান, নৌযান চলাচল এবং জাহাজ চলাচলের পথ নিয়ে সমঝোতা প্রায় সম্পন্ন।
তবে, হরমুজ খুলে দেওয়ার বিষয়টি শুধুমাত্র নৌপথ নির্ধারণের বিষয় নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের নিরাপত্তা দাবির সঙ্গে জড়িত। যুদ্ধের আগে হরমুজ আন্তর্জাতিক নৌপথ ছিল, কিন্তু যুদ্ধের পর থেকে জাহাজ চলাচল কমে গেছে। ইরান এখন হরমুজকে চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে দেখছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সমস্যাটি হচ্ছে, ইরানের দাবিগুলো মেনে নেওয়া মানে যুদ্ধের পর ইরানের রাজনৈতিক ও কৌশলগত অর্জন মেনে নেওয়া। অন্যদিকে, শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ খুলে দেওয়ার চেষ্টা সংঘাত আরও দীর্ঘ করতে পারে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র কতটুকু চাপ ধরে রেখে ইরানের দাবিগুলো মেনে নেবে এবং হরমুজ খুলতে রাজি হবে। এই যুদ্ধে কে কতটা শক্তিশালী, তা হয়তো যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, বরং হরমুজের জলপথেই নির্ধারিত হবে।