পাকিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের অধিকার রক্ষা সংস্থাগুলো এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইসলামাবাদ, করাচি ও লাহোর ছাড়া দেশের অন্য কোনো স্থানে সংবাদ সংগ্রহের জন্য স্থানীয় বা বিদেশি সাংবাদিকদের সরকারী অনুমতি নিতে হবে। এই বিধিনিষেধের ফলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর সরেজমিন সংবাদ পরিবেশন সম্পূর্ণভাবে সরকারের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুস্তফা নওয়াজ খোখার মন্তব্য করেছেন, ‘এই নির্দেশিকা বিদেশি গণমাধ্যমের স্বাধীনভাবে কাজ করার পথকে পুরোপুরি বন্ধ করে দিচ্ছে। এমন নিষেধাজ্ঞা কেবল অপতথ্য ও ভুয়া খবর ছড়ানোর সুযোগ বাড়াবে।’
পাকিস্তান সরকার এই নির্দেশিকাকে সংবাদমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা মনে না করে বলছে, এটি গণমাধ্যমকে সহায়তার প্রশাসনিক ব্যবস্থা তৈরি করার উদ্দেশ্যে। ‘ফরেন মিডিয়া ফ্যাসিলিটেশন গাইডলাইনস, ২০২৬’ নামের এই নির্দেশিকায় 'নো অবজেকশন সার্টিফিকেট' (এনওসি) পেতে কত সময় লাগবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
বিবিসি জানাচ্ছে, সাধারণত বিদেশি সাংবাদিকদের এনওসি পেতে কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হয়। নতুন নিয়মে ফ্রিল্যান্সারসহ যেকোনো স্থানীয় প্রতিনিধিকেও সংবাদ সংগ্রহের জন্য এনওসি নিতে হবে।
পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা ডনের সম্পাদক জাফর আব্বাস এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, ‘এগুলো হাস্যকর এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। সাংবাদিকদের এনওসি নিতে বলা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।’
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, পাকিস্তানের ‘আদর্শ, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার পরিপন্থী’ কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলে সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল করা হতে পারে।
পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, নির্দেশিকাটির পেছনে কোনো আইনগত ভিত্তি নেই এবং এটি একটি নির্বাহী আদেশ মাত্র।
সম্প্রতি পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সহিংস বিক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। বিবিসি ও আল জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কাশ্মীরের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সরকারের পক্ষ থেকে এই কড়া বার্তা দেওয়া হয়।
এছাড়া, পাকিস্তানে আল জাজিরার ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে ব্লক করে দেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।