বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট, ২০২৬
ব্রেকিং
রাজনীতি

সরকারি চাকরিতে কোটা সমস্যার সমাধান: দুই বছর পর কি হলো?

সরকারি চাকরির কোটা সংস্কার আন্দোলনের দুই বছর পরও সমস্যার সমাধান হয়নি। নারীরা ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বঞ্চিত।

সরকারি চাকরিতে কোটা সমস্যার সমাধান: দুই বছর পর কি হলো?

সরকারি চাকরির কোটা সংস্কার আন্দোলনের দুই বছর পূর্ণ হলো, তবে এর স্থায়ী সমাধান নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। এই আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যা শেখ হাসিনা সরকারের পতনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বর্তমান কোটা কাঠামোর অবস্থা কী, এবং কারা এখনো বঞ্চিত বোধ করছেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

বর্তমানে সরকারি চাকরির ৯৩ শতাংশ পদ পূরণ করা হয় সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে, এবং বাকি ৭ শতাংশ বিভিন্ন কোটার জন্য বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ ও বীরাঙ্গনাদের সন্তানদের জন্য, ১ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য, এবং ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী ও ট্রান্সজেন্ডার জনগণের জন্য। তবে, এই কাঠামোর মধ্যে নারীদের জন্য আলাদা কোনো কোটা রাখা হয়নি, যা নতুন অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে।

২০২৫ সালের ২৫ মার্চ কোটা সম্পর্কিত অসন্তোষ পর্যালোচনার জন্য একটি ১১ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের রিভিউ কমিটি গঠন করা হয়। তবে, কমিটির কার্যক্রম বর্তমানে স্থবির অবস্থায় রয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোস্তফা জামান জানান, তিনি এই কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত নন।

নারী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের দাবি, কোটা কমিয়ে ৭ শতাংশে আনার ফলে তাদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব পড়েছে। মহিলা সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি কর্মীদের মধ্যে নারীর সংখ্যা মাত্র ২৮ শতাংশ, এবং জেলা অফিসে নারীদের উপস্থিতি ৭ শতাংশ।

জাতীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের মতে, সর্বশেষ বিসিএস পরীক্ষায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী থেকে মাত্র চারজন প্রার্থী সুযোগ পেয়েছেন, যা অতীতে ১০ থেকে ২০ জন ছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা মনে করেন, নারী ও আদিবাসীদের জন্য যৌক্তিক কোটা থাকা প্রয়োজন।

কোটা ব্যবস্থার ইতিহাস ১৯৭২ সালে শুরু হয়েছিল, যখন মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ এবং নারী কোটা ১০ শতাংশ ছিল। সময়ের সাথে সাথে এটি ৫৬ শতাংশে পৌঁছায়। ২০১৮ সালে আন্দোলনের মুখে সরকার কোটা প্রথা বাতিল করলেও ২০২৪ সালে হাইকোর্ট মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার রায় দেন। বর্তমানে ৭ শতাংশ কোটার নিয়ম কার্যকর রয়েছে, তবে প্রান্তিক নারী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের প্রশ্নটি এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন