২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বিভীষিকাময় দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়, যখন পুলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে নিহত হন শতাধিক মানুষ।
সন্ধ্যার দিকে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি একদিন এগিয়ে এনে পাঁচ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়, যা দেড় যুগের আওয়ামী শাসনের পতনের সূচনা করে। এদিন গোটা দেশ কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়, যেখানে ছাত্র জনতা আওয়ামী লীগের দলীয় ক্যাডার ও সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায়।
৪ আগস্ট সকাল থেকেই রাজধানীতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা, যেমন যাত্রাবাড়ি, মোহাম্মদপুর, শাহবাগ, পল্টন, গুলিস্তান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ধানমন্ডি ও মিরপুরে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।
সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সন্ধ্যার আগেই সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ ঘোষণা করে এবং তিন দিনের সাধারণ ছুটির ঘোষণা দেয়।
অভ্যুত্থান সফল হলে অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। শাহবাগে ব্যাপক জমায়েতের মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।
শুরুতে ছয়ই আগস্ট পালনের কথা থাকলেও পরে আন্দোলনের নেতারা এটি একদিন এগিয়ে পাঁচই আগস্ট নির্ধারণ করেন। সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সারা দেশ থেকে ছাত্র-জনতাকে ঢাকায় আসার আহ্বান জানান।
এভাবে গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগিয়ে যেতে থাকে পরিস্থিতি।