মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্ররা। হোয়াইট হাউসের দাবি অনুযায়ী, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে, তবে পর্দার আড়ালে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
ট্রাম্পের মিত্রদের আশঙ্কা, ইরানকে চাপে ফেলতে গিয়ে তিনি নিজেই চাপে পড়েছেন। একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী জানান, 'মাঠের লড়াইয়ে আমরা ইরানকে আঘাত করেছি। কিন্তু আসল কার্ড ইরানের হাতেই।'
যুদ্ধের শুরুতে পরিকল্পনা ছিল দ্রুত হামলা এবং বিজয়ের ঘোষণা। তবে দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন হিসাব তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কৌশল বাণিজ্যিক জাহাজে চাপ সৃষ্টি করা। এর ফলে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়ে ৭০ থেকে ১০০ ডলারে পৌঁছেছে।
হোয়াইট হাউস দাবি করছে, অভিযান সফল, কিন্তু একই সময়ে নতুন সেনা পাঠানো হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে। প্রায় দুই হাজার মেরিন এবং অ্যাম্ফিবিয়াস আক্রমণ সক্ষমতা মোতায়েন করা হয়েছে।
ট্রাম্পের 'America First' শিবিরও বিভক্ত হয়ে পড়েছে। তাদের মতে, স্থলযুদ্ধে নামা মানে দীর্ঘ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া। তারা সাইবার হামলা এবং মিত্র নৌবাহিনী ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন, কিন্তু মার্কিন সেনাকে ইরানের মাটিতে নামানোর বিপক্ষে।
ইরানের নতুন নেতৃত্বের প্রতি ট্রাম্পের উদ্বেগও রয়েছে। সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি নেতৃত্বে এসেছেন। ট্রাম্পের সহযোগীরা প্রশ্ন তুলছেন, 'যার পরিবার যুদ্ধে নিহত হয়েছে, সে কি নমনীয় হবে?'
বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ এখন ট্রাম্পের হাতে কি না, নাকি তা ইরান নির্ধারণ করছে? হোয়াইট হাউস বিজয়ের আশায় রয়েছে, কিন্তু ট্রাম্পের মিত্ররাই বলছেন, 'এখন কার্ড ইরানের হাতে।'