রবিবার, ০২ আগস্ট, ২০২৬
ব্রেকিং
স্বাস্থ্য

মাইক্রোপ্লাস্টিকের স্বাস্থ্যঝুঁকি: ক্যান্সারের সম্ভাবনা কতটা?

মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি টুথপেস্টে এবং এর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে।

মাইক্রোপ্লাস্টিকের স্বাস্থ্যঝুঁকি: ক্যান্সারের সম্ভাবনা কতটা?

সম্প্রতি এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে বাজারে প্রচলিত ৩৪টি প্রধান টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি রয়েছে। গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ৭৬.৫% টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণা পাওয়া গেছে, যা প্রতি ১০০ গ্রামে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত হতে পারে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিকের কণা। এগুলি প্রধানত দুইভাবে তৈরি হয়: প্রথমত, বিভিন্ন কসমেটিকস ও টুথপেস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে মেশানো হয় এবং দ্বিতীয়ত, ব্যবহৃত প্লাস্টিকের ভেঙে যাওয়া অংশ থেকে তৈরি হয়।

এই মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা মানবদেহে প্রবেশের প্রধান মাধ্যম হলো খাবার ও পানির মাধ্যমে। প্লাস্টিকের বোতলে পানি খাওয়া, প্রসেসড খাবার ব্যবহার এবং এমনকি বাতাস থেকেও এই কণা শরীরে প্রবেশ করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি, কারণ তারা প্রায়ই টুথপেস্ট গিলে ফেলে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে ঢোকার পর বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। এটি হৃদরোগ, রক্তনালীর জটিলতা, কোষের ক্ষতি এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা তৈরি করতে পারে। এছাড়া, এটি শরীরের হরমোনের স্বাভাবিক প্রবাহে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক কি ক্যান্সার সৃষ্টি করে? বিজ্ঞানীরা এখনও নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি যে মাইক্রোপ্লাস্টিক সরাসরি ক্যান্সার সৃষ্টি করে কিনা। তবে, এটি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে যা ক্যান্সারের জন্য একটি বড় অনুঘটক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুরা এবং যারা টেক্সটাইল ও কেমিক্যাল শিল্পে কাজ করেন, তারা এই স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে সবচেয়ে বেশি আছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের জন্য ব্যবহৃত চারটি জনপ্রিয় টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি রয়েছে।

বিজ্ঞাপন