ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) চেলসিকে নিয়ম ভঙ্গের দায়ে ১ কোটি পাউন্ড জরিমানা করেছে। একইসঙ্গে, ক্লাবটির ওপর টানা দুই ট্রান্সফার উইন্ডোর জন্য নতুন খেলোয়াড় নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) এফএ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ শাস্তির কথা নিশ্চিত করে। সংস্থাটি জানায়, তাদের গঠিত একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কমিশনের তদন্তে চেলসির বিরুদ্ধে উত্থাপিত ৭৪টি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে।
প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্লাবটির ৬ পয়েন্ট কেটে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও আপিলের প্রেক্ষিতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে কর্তৃপক্ষ। পয়েন্ট কর্তনের বদলে দলবদলের ওপর স্থগিত নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের সেপ্টেম্বরে। ফুটবল এজেন্ট, মধ্যস্থতাকারী এবং খেলোয়াড়দের চুক্তিতে তৃতীয় পক্ষের অনৈতিক বিনিয়োগসংক্রান্ত একাধিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ আনে এফএ। তদন্তে উঠে আসে, ২০০৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে সংঘটিত এসব অনিয়মের সিংহভাগ সাবেক রুশ মালিক রোমান আব্রামোভিচের মেয়াদের সময় ঘটে।
চেলসি তাদের ৭৪টি অনিয়মের কথা স্বীকার করে নিলে স্বাধীন কমিশন প্রথমে ১ কোটি পাউন্ড জরিমানার পাশাপাশি স্থগিত ৬ পয়েন্ট কাটার সিদ্ধান্ত দেয়। তবে পরবর্তীতে আপিল বোর্ড পয়েন্ট কাটার রায় বাতিল করে দুই ট্রান্সফার উইন্ডোর স্থগিত নিষেধাজ্ঞা আরোপের রায় প্রদান করে।
এফএ জানিয়েছে, এই অনিয়মের নেপথ্যে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে। ২০২২ সালে আব্রামোভিচের হাত থেকে চেলসির মালিকানা বদল হওয়ার পর বিষয়টি প্রথম আলোতে আসে।
নতুন মালিকানা প্রতিষ্ঠান ‘ব্লুকো’ দায়িত্ব নেওয়ার সময় অতীতের এসব আর্থিক অনিয়ম শনাক্ত করে এবং তারা গোপন না রেখে স্বেচ্ছায় প্রিমিয়ার লিগ, এফএ এবং উয়েফাকে বিস্তারিত জানায়।
এফএর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে চেলসি। লন্ডনের ক্লাবটি জানায়, তারা শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে পূর্ণ সহযোগিতা করেছে এবং তদন্তের স্বার্থে স্বেচ্ছায় হাজার হাজার নথিপত্র সরবরাহ করেছে।
এছাড়াও, বর্তমান ক্লাব বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা উয়েফা ও প্রিমিয়ার লিগের সঙ্গেও ইতিবাচক সমঝোতায় পৌঁছেছিল।