২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হলেও আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বিতর্ক থামছে না। দেশটির টেলিভিশন চ্যানেল তোদো নোতিসিয়াস (টিএন) সম্প্রতি একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে ১১ জন পরিচিত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যারা বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য দায়ী বলে দাবি করা হয়েছে।
তালিকায় উল্লেখ রয়েছে জনপ্রিয় স্ট্রিমার আইশো স্পিড, নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, মিসরের কোচ হোসাম হাসান, অভিনেতা স্যামুয়েল এল. জ্যাকসন, পেদ্রো পাসকাল, সংগীতশিল্পী রোজালিয়া, সাবেক পর্নতারকা মিয়া খলিফা, সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানসহ আরও কয়েকজনের নাম। টিএনের দাবি, এই ব্যক্তিরা বিভিন্ন মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে নেতিবাচক ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন।
সম্প্রতি ‘স্পিডি আপডেটস’ নামে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে টিএনের অনুষ্ঠানের সেই অংশ ছড়িয়ে পড়ে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে টিএনের এই মূল্যায়ন নিয়ে বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছে।
কিছুজন চ্যানেলটির দাবির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, আবার অনেকে বলছেন, তালিকায় থাকা বেশ কয়েকজন আসলে আর্জেন্টিনাকে আক্রমণ করেননি; বরং বিশ্বকাপ চলাকালে ঘটে যাওয়া কিছু নির্দিষ্ট ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন।
২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। কেপ ভার্ডে, মিসর ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আর্জেন্টিনা কিছু সুবিধাজনক সিদ্ধান্ত পেয়েছে।
বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের আচরণ, আইশোস্পিডকে ঘিরে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ এবং বিভিন্ন ব্যক্তির সমালোচনাও আলোচনা সৃষ্টি করেছিল। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি এবং ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়।
বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরও আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বিতর্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অব্যাহত রয়েছে। টিএনের প্রকাশ করা এই তালিকা সেই আলোচনা আরও উসকে দিয়েছে।