যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, অটোয়া যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালকোহল, গাড়ি ও দুগ্ধজাত পণ্যের প্রতি 'বৈষম্যমূলক আচরণ' করছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কানাডা থেকে আমদানি করা বেশ কিছু পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন।
সোমবার (২১ জুলাই) ট্রাম্পের জারি করা আদেশ অনুযায়ী, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তথ্যপত্রে বলা হয়েছে, নতুন শুল্কের আওতায় থাকবে কানাডার ওয়াইন, হকি স্টিক, সিমেন্টসহ বিভিন্ন পণ্য।
চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্পের আরোপ করা বেশ কয়েকটি শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেওয়ার পর এবার তিনি ১৯৩০ সালের ট্যারিফ অ্যাক্টের '৩৩৮ ধারা' ব্যবহার করে নতুন শুল্ক আরোপের পথ বেছে নিয়েছেন। এই বিধান আগে কখনও এভাবে প্রয়োগ করা হয়নি।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, জ্বালানি, পটাশ এবং আগে থেকেই খাতভিত্তিক শুল্কের আওতায় থাকা পণ্যগুলোর ক্ষেত্রে নতুন এ শুল্ক প্রযোজ্য হবে না। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (ইউএসএমসিএ)-এর আওতায় থাকা অনেক পণ্যের ওপরও এই ৫০% শুল্ক কার্যকর হবে।
এ ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত ইউএসএমসিএ চুক্তির ‘সরাসরি লঙ্ঘন’। তিনি জানান, বাণিজ্য বিরোধ নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা আরও জোরদার করতে প্রস্তুত রয়েছে কানাডা।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। গত বছর প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বাণিজ্য অংশীদারের ওপর ধারাবাহিকভাবে শুল্ক আরোপ করেছেন।
নতুন এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার কানাডার সঙ্গে সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এর কয়েক দিন আগে কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও দেশটির ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, গত বছর ট্রাম্পের শুল্ক নীতির পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া মাত্র দুটি দেশের একটি হলো কানাডা; অন্যটি চীন। এছাড়া ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকি এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম অঙ্গরাজ্য’ করার মন্তব্যের প্রতিবাদে কানাডার অধিকাংশ প্রদেশে মার্কিন অ্যালকোহলজাত পণ্য কেনা বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেছে হোয়াইট হাউস।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার অভিযোগ করেন, কানাডা তাদের দোকানের তাক থেকে মার্কিন অ্যালকোহল সরিয়ে ফেলেছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য বেশি বাজার সুবিধা দিয়েছে। তার ভাষ্য, নতুন এই শুল্কের উদ্দেশ্য হলো কানাডার ‘পাল্টা ব্যবস্থা ও বৈষম্যমূলক আচরণের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা।’