কয়েক দশকের সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে পাকিস্তান থেকে বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন মীর ইয়ার বেলুচ। এই ঘোষণা অঞ্চলটির দীর্ঘদিনের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মীর ইয়ার বেলুচের নেতৃত্বে বেলুচিস্তানের মুক্তির সংগ্রাম নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। যদিও স্বাধীনতার লক্ষ্যে এ সংগ্রামের পথচলার ইতিহাস অর্ধশতকের বেশি পুরোনো। এর আগে প্রিন্স আব্দুল করিম বেলুচ, নবাব নওরোজ খান ও নবাব খায়ের বখশ মারির মতো প্রভাবশালী নেতারা এই অঞ্চলের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন।
১৯৪৮ সালে প্রিন্স আব্দুল করিম পাকিস্তানের সঙ্গে জোরপূর্বক একীভূতকরণের বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। ১৯৫৮ সালে নবাব নওরোজ খান গেরিলা প্রতিরোধের সূচনা করেন, এবং ১৯৬০ এর দশকে নবাব খায়ের বখশ মারি বিচ্ছিন্নতাবাদের আদর্শিক ভিত্তি স্থাপন করেন। ২০০৬ সালে নবাব আকবর খান বুগতির আত্মত্যাগ এই আন্দোলনকে একটি চরম বাস্তবতায় মুখোমুখি করে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতের সব নেতাদের সঙ্গে মীর ইয়ার বেলুচের মূল পার্থক্য তার প্রচার কৌশলে। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বিশ্ববাসীর সমর্থন ও জাতিসংঘের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। পূর্বে উপজাতীয় ও গেরিলা কাঠামোর ভিত্তিতে লড়াই হলেও, এবার গণতান্ত্রিক পথে বিপ্লবকে এগিয়ে নিচ্ছেন ইয়ার বেলুচ।
তবে বেলুচিস্তানের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই অঞ্চলটি অতীতে বারবার রাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তিতে দমে গেছে। তাই ইয়ার বেলুচের সংগ্রামের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্লেষকরা এখনও আশাবাদী নন।
মীর ইয়ার বেলুচ কি পারবেন সেই ব্যর্থতা কাটিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে, তা সময়ই বলবে।