গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার জামুডাঙ্গা এলাকায় ঘাঘট নদীর ওপর নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক ভয়াবহ ধসের মুখে পড়েছে। দেড় মাস ধরে চলমান ভাঙনে, ইতোমধ্যে সড়কের একপাশের ২শ' ফুটের বেশি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। চলমান বৃষ্টি ও নদীর পানির চাপে আরও কয়েক স্থানে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় সড়কের অবশিষ্ট অংশ ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক ব্যবহার করছেন হাজারো মানুষ। স্থানীয়রা জানান, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
এলজিইডির দাবি, সড়কটি তাদের হলেও নদীভাঙন প্রতিরোধের দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো)। অন্যদিকে পাউবো জানায়, জরুরি মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই আপাতত জিও ব্যাগ ও বাঁশের পাইলিংয়ের কাজ শুরু হবে। তবে দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সংযোগ সড়কের পাশাপাশি সেতুটিও হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, 'বৃষ্টি ও নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়ক ধসে যাচ্ছে। প্রায় অর্ধেক সড়ক নদীতে চলে গেছে। দেড় মাসেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।' ভ্যানচালক আবেদ আলী বলেন, 'প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে, বিশেষ করে রাতে।' অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মো. ফয়জার রহমান বলেন, 'ব্রিজ নির্মাণের পরও নদীর তীর ঘেঁষা সড়কটি প্রতিবছর ভাঙছে।'
সম্প্রতি ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন 'গাইবান্ধা-৩' আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু। তিনি দ্রুত মেরামত ও স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দেন। স্থানীয়দের দাবি, বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগেই জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ, বাঁশের পাইলিং ও অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।