চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সাপের উপদ্রব মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। গত সাত দিনে সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৩ জন, যা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আক্রান্তদের দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার ফলে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি উপজেলার শত শত গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সাপের কামড়ে আহত ১৩ জন, যাদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে।
আক্রান্তদের মধ্যে ৮ জন সবুজ বিষাক্ত সাপের কামড়ে আহত হয়েছেন, বাকিরা কোবরা ও রাসেলস ভাইপারের মতো বিষাক্ত সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকের পায়ের আক্রান্ত অংশ নীল হয়ে গেছে, তবে দ্রুত চিকিৎসার কারণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
চিকিৎসকরা জানান, আক্রান্ত ৯৩ জনের মধ্যে সবার ক্ষেত্রে বিষক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা অতীতের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বন্যা পরবর্তী সময়ে সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যান্টিভেনম রিসার্চ সেন্টারের কো-অর্ডিনেটর ডা. আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ বলেন, "জুলাই মাসের এই সময়ে আগে কখনো এত বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়নি।" তিনি আরও জানান, বন্যার কারণে সাপের স্বাভাবিক আবাসস্থল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষ ও সাপের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা বেড়ে গেছে।
এদিকে, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ঘরে প্রবেশের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।