কুমিল্লা সদর হাসপাতালের প্রধান ভবনের নিচ তলার দুটি ওয়ার্ডে ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ নেই। সোমবার সকালে অতি ভারী বৃষ্টির পর মেডিসিন ও সার্জারি ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা তৈরি হলে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়।
জলাবদ্ধতার কারণে বৈদ্যুতিক লাইন শর্ট সার্কিট হয়েছে বলে জানিয়েছেন নার্সরা। হাসপাতালের দুই ওয়ার্ডের রোগীরা অন্ধকারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। মেডিসিন পুরুষ ওয়ার্ডের নার্স মীনাক্ষী রানী বলেন, "বৃষ্টির পর থেকে এখানে বিদ্যুৎ আসেনি।"
হোসনেয়ারা বেগম, যিনি মেডিসিন ও সার্জারি মহিলা ওয়ার্ডের দায়িত্বে আছেন, জানান, "অবর্ণনীয় কষ্টের কারণে আটজন রোগী বাড়ি চলে গেছে।" বিদ্যুৎহীনতার কারণে রোগীদের অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে।
সোমবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের মেডিসিন মহিলা ওয়ার্ডে মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছিল। পাশের বেডে সিজারিয়ান মাকে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছিল এক কিশোরী।
মাফিয়া বেগমের জামাতা রিয়াজ হোসেন অভিযোগ করেন, "১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে হাসপাতালে বিদ্যুৎ নেই। এটি হতে পারে না।" তিনি বলেন, "আমার শাশুড়ি পাখা ছাড়া থাকতে পারে না এবং সারাক্ষণ হাঁসফাঁস করছে।"
নিলুফা আক্তার, যিনি তার মায়ের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বিগ্ন, জানান, "ডাক্তার-নার্সরাও ঠিকমতো আসছেন না।" তিনি বলেন, "সামর্থ্য থাকলে আমি আমার মাকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতাম।"
কুমিল্লা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আব্দুল করিম ভূঁইয়া সোমবার রাত আটটায় জানান, "আমাদের ইলেকট্রিশিয়ানরা কাজ করছে। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ দিতে পারব।"