কুড়িগ্রামের আড়াইশো শয্যা সরকারি হাসপাতালে হৃদরোগ নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত ইকো-কার্ডিওগ্রাফি ও ইটিটি মেশিন তিন বছর ধরে অচল রয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে রোগীরা কম খরচে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং তাদেরকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে গিয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হতে হচ্ছে।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, একাধিকবার মেরামতের চেষ্টা করা হলেও যন্ত্রগুলো পুনরায় সচল করা সম্ভব হয়নি। ফলে, হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য চিকিৎসা ব্যয় বাড়ছে।
হৃদরোগে আক্রান্ত মাহফুজার রহমান রাজু জানান, বুকে ব্যথা বাড়লে তিনি ইকোকার্ডিওগ্রাফি করাতে চান, কিন্তু সরকারি হাসপাতালে গিয়ে ইকো ও ইটিটি কক্ষ তালাবদ্ধ পান। তাই তাকে বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে, যা তার জন্য অতিরিক্ত খরচের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে চালুর এক মাসের মধ্যেই উক্ত যন্ত্র দুটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অচল হয়ে যায়। রোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে সেবা বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল লাভবান হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী বলেন, ‘মেরামতের জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো সমাধান মেলেনি।’ তিনি জানান, সরকারি হাসপাতালে ইকো এবং ইটিটি পরীক্ষার ফির তুলনায় বেসরকারি ক্লিনিকে ৬ থেকে ১০ গুণ পর্যন্ত অর্থ গুনতে হয় রোগীদের।