হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এ হামলায় একটি ট্যাংকারের এক ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও আটজন, যাদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় এবং দুজন ইউক্রেনের নাগরিক।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, আল-বাহিয়া ও মোম্বাসা নামের দুটি ট্যাংকার ওমানের আঞ্চলিক জলসীমায় অবস্থান করার সময় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিহত ভারতীয় নাবিক মোম্বাসা ট্যাংকারে কর্মরত ছিলেন। হামলার পর দুটি জাহাজেই আগুন ধরে যায়, তবে পরবর্তীতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকার দুটির বর্তমান অবস্থা কিংবা সেগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ইউএইর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেছে, দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় তারা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।
এদিকে, ইউএইর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিহত ভারতীয় নাবিকের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। তারা নয়াদিল্লির প্রতিও সংহতি প্রকাশ করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা কিংবা হরমুজ প্রণালিকে রাজনৈতিক চাপ বা অর্থনৈতিক ব্ল্যাকমেইলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা জলদস্যুতার শামিল। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এই জলপথে যেকোনো ধরনের সামরিক হামলা বা উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। ইউএইর এই অভিযোগ নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও গভীর করার আশঙ্কা তৈরি করেছে।