অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট এক্সপার্ট (এফইবিডি)-এর বিরুদ্ধে প্রায় ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩১ হাজার ৯০ টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খানের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজধানীর মতিঝিল থানায় গত রবিবার সাতজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম (ব্যবস্থাপনা পরিচালক), এম এ রশিদ শাহ সম্রাট (প্রেসিডেন্ট), আমির হামজা রশিদ শাহ নায়েম (পরিচালক), এ কে এম শাহদাত হোসেন (পরিচালক), আব্দুল গণি মেহেদী (পরিচালক), মো. সাকীব হোসেন (হেড অব ফাইন্যান্স) এবং মোতাহের হোসেন (স্বত্বাধিকারী)।
২০১৬ সালে অনলাইনভিত্তিক বিমান টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু করে ফ্লাইট এক্সপার্ট। প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীতে হোটেল বুকিং, হজ ও ওমরাহ প্যাকেজসহ বিভিন্ন ট্রাভেল সেবা প্রদান করতে থাকে। ২০১৯ সালে এফইবিডি নামে যৌথমূলধনী কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধন গ্রহণ করে।
সিআইডির অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি বি-টু-বি ও বি-টু-সি উভয় পদ্ধতিতে বিমান টিকিট বিক্রি করত। বিভিন্ন সময়ে অস্বাভাবিক মূল্যছাড়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করা হয়, কিন্তু টিকিট সরবরাহ করা হয়নি।
গত বছরের ১ আগস্ট সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম দেশ ত্যাগ করেন। সিআইডির অনুসন্ধানে দেখা যায়, এফইবিডির ব্যাংক হিসাবে জমাকৃত অর্থ পরবর্তীতে ফ্লাইট এক্সপার্টের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, কোম্পানির কয়েকজন পরিচালক ও হেড অব ফাইন্যান্স দেশত্যাগের পরও উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর করেন। এসব লেনদেনের মাধ্যমে প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সিআইডির তদন্তে প্রাথমিকভাবে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩১ হাজার ৯০ টাকা আত্মসাৎ ও পরবর্তীতে তা মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে স্থানান্তরের তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার তদন্ত সিআইডি পরিচালনা করবে এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।