রংপুর মহানগরীর মডার্ন মোড়ে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপায় আবুল কাশেম (৪৫) নামের এক মাদরাসা শিক্ষক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে।
১২ জুলাই সকাল ১০টার দিকে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়ের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় জিয়াদ পুকুর দাখিল মাদরাসার সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট আবুল কাশেম তার চার বছর বয়সী মেয়ে তাসফিয়াকে মাদরাসায় পৌঁছে দিতে গিয়ে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় পেছনে ব্যাক করা রংপুর থেকে ঢাকাগামী আর এম স্পেশাল কোচ তাকে চাপা দেয়।
দুর্ঘটনার ফলে আবুল কাশেম ঘটনাস্থলেই মারা যান, তবে তার মেয়ে তাসফিয়া অক্ষত ছিলেন। নিহত শিক্ষক মিঠাপুকুর উপজেলার ছড়ান বালুয়া এলাকার মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে এবং কর্মস্থলের কারণে রংপুর নগরীর ধর্মদাস মিলনপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন।
দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটি আটকে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করলে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিঘ্ন ঘটে। মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে বাসটির প্রায় পুরো অংশ পুড়ে যায়। এদিকে স্থানীয়রা বাসচালক মর্তুজা (৫৬)-কে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
তাজহাট মেট্রোপলিটন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চালককে জনতার কাছ থেকে হেফাজতে নেয় এবং গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।