সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
ব্রেকিং
জিবুতি উপকূলে নৌকাডুবিতে ১৩৯ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা, নিহত ১; আহত ১১ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ২৪ বাংলাদেশি আহত, দুই নিহত রিয়াদের বিমানবন্দরে বিস্ফোরণের শব্দ, আগুন প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে সৌদি বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ২ বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত জিবুতি উপকূলে নৌকাডুবিতে ১০৯ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হুতিদের হামলায় সৌদি বিমানবন্দরে নিহত ১২, যুদ্ধের আশঙ্কা রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় জাতিসংঘ মহাসচিবের গভীর উদ্বেগ সৌদি আরবে বিমানবন্দরে হামলা, ঢাকা থেকে ৯ ফ্লাইট বাতিল
ধর্ম

নোয়াখালীর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র দেশের শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত

নোয়াখালী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র দেশের শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।

নোয়াখালীর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র দেশের শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত

নোয়াখালীর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ২৪ ঘণ্টা নিরাপদ প্রসবসেবা প্রদান করে দেশের মধ্যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এখানে ১,২৯৭ জন মাকে নিরাপদ প্রসবসেবা দেওয়া হয়েছে। এ সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ জেলা পর্যায়ের ৬৪টি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে নোয়াখালী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র।

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আগামী ১২ জুলাই রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে নোয়াখালী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের হাতে রাষ্ট্রপতি সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হবে। ২০০৫ সালের ১৭ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি কয়েক বছর পর নানা সংকটে পড়ে, ২০১৬ সালে প্রসবসেবার সংখ্যা শূন্যে নেমে আসে।

২০২১ সালে করোনা মহামারির সময় ডা. মুহাম্মদ জিহাদুল হক মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে ২৪ ঘণ্টা নিরাপদ প্রসবসেবা চালুর উদ্যোগ নেন। বর্তমানে এখানে প্রতি মাসে ২০০টিরও বেশি স্বাভাবিক প্রসব এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিজারিয়ান অপারেশন করা হচ্ছে।

এছাড়া প্রসবপূর্ব, প্রসবকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সেবা, পরিবার পরিকল্পনা, শিশুস্বাস্থ্য এবং কিশোর-কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্যসেবাও নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এখানে ছয়জন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, একজন ল্যাব টেকনোলজিস্ট, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন মিডওয়াইফ, একজন অ্যাম্বুলেন্সচালক ও পাঁচজন আয়া কর্মরত রয়েছেন।

কেন্দ্রটি গত ২০২৫ সালে মোট ২,৭০৪টি প্রসব সম্পন্ন করে, যার মধ্যে ২,৬০৮টি ছিল স্বাভাবিক প্রসব এবং ৯৬টি সিজারিয়ান। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ১,২৭৪টি স্বাভাবিক প্রসব এবং ২৩টি সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে।

সেবাগ্রহীতারা কেন্দ্রের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিকতায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। সদর উপজেলার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার কামরুন নাহার বলেন, ‘এখানকার সবাই অত্যন্ত আন্তরিক।’

নোয়াখালীর উপপরিচালক আবুল কাশেম মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানান, ‘এখানে প্রতি মাসে গড়ে আড়াই শতাধিক স্বাভাবিক প্রসব করানো হয়। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব নিশ্চিত করা।’ তবে, সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন পূর্ণকালীন গাইনি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হলে সেবার মান আরও উন্নত হবে।

বিজ্ঞাপন