শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

তুরস্কের 'এফ-৩৫' বিক্রিতে ইসরায়েলের উদ্বেগ ও নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়া

তুরস্কের 'এফ-৩৫' যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু।

তুরস্কের 'এফ-৩৫' বিক্রিতে ইসরায়েলের উদ্বেগ ও নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়া

তুরস্কের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক 'এফ-৩৫' যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, তুরস্কের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি হলে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে একাধিক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু জানান, ইরানের প্রভাব কমে যাওয়ার পর তুরস্ক অঞ্চলের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের নেতৃত্বে তুরস্কের আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে এবং দেশটি শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে কাজ করছে না।

নেতানিয়াহু বলেন, তুরস্কের হাতে 'এফ-৩৫' যুদ্ধবিমান গেলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক শক্তির ভারসাম্য বদলে যেতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, আকাশে ইসরায়েলের কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা দেশটির নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এরদোয়ানকে 'অসাধারণ নেতা' বলে মন্তব্য করেছেন। ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে তিনি জানান, তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ইতিবাচক। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, তুরস্কের কাছে 'এফ-৩৫' বিক্রির বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

নেতানিয়াহুর মতে, সিদ্ধান্তটি এখনও পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। এজন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ও কংগ্রেসে এ বিষয়ে বিরোধিতা জোরদারের চেষ্টা করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের আশঙ্কা, ইরানের প্রভাব কমে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট কৌশলগত শূন্যতা পূরণে তুরস্ক আরও সক্রিয় হতে পারে। ইতোমধ্যে সিরিয়ায় তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি এবং গাজায় প্রভাব বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে ইসরায়েল গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

এছাড়া, গ্রিস ও সাইপ্রাস দীর্ঘদিন ধরেই আঙ্কারার নীতির সমালোচক। আর্মেনীয়-আমেরিকান বিভিন্ন সংগঠনও তুরস্কের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। উল্লেখ্য, রাশিয়ার তৈরি 'এস-৪০০' ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে তুরস্ককে 'এফ-৩৫' কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

বিজ্ঞাপন