ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাজনৈতিক উত্থান একটি দীর্ঘ সংগ্রামের ফল। ১৯৩৯ সালে মাশহাদ শহরে দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শৈশব থেকেই দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করে বেড়ে ওঠেন খামেনি।
রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে তিনি আলেম বাবার আট সন্তানের মধ্যে একজন ছিলেন। আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। খামেনি রাজপথে আন্দোলনে অংশ নিয়ে বেশ কয়েকবার কারাগারে যেতে বাধ্য হন।
১৯৭৯ সালে খোমেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পর খামেনি উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করেন। ১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর তাকে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পর খামেনি ৩৭ বছর ধরে ইরানের ক্ষমতায় প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এই সময়ে তিনি ৬ জন প্রেসিডেন্টের শাসন দেখেছেন এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বহু রাজনৈতিক সংগ্রামে লিপ্ত ছিলেন।
তবে, তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে হারিয়েছেন, যেমন কুদস ফোর্স কমান্ডার কাশেম সোলাইমানি। এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও তিনি কখনো মনোবল হারাননি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় খামেনি নিহত হন। এই ঘটনার মাধ্যমে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।