বান্দরবানে অতিভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ে মৃত্যুফাঁদ তৈরি হয়েছে। গত সাত দিনে জেলার বিভিন্ন পাহাড়ে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ২৩টির বেশি সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে।
বৃষ্টির ফলে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বেশ কিছু এলাকা, এবং মোবাইল নেটওয়ার্কও নেই। দুর্গতদের জন্য সাত উপজেলা ও দুই পৌরসভায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে দেড় হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
বুধবার রাত তিনটার দিকে লামার মিশন পাড়ার পাহাড় ধসে ইউনুস, তার স্ত্রী এবং তিন বছরের শিশু নিহত হন। ইউনুসের মা গুলবাহের কান্না থামছে না। একই সময়ে পাহাড়টির পূর্ব পাশেও ধস নামে, যেখানে রোজিনাসহ চারজন বসবাস করতেন।
স্থানীয়রা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে মাটির শক্তভাব নষ্ট হয়েছে, ফলে আশপাশের সব পাহাড় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অনেকেই ঘর তালা দিয়ে চলে গেছেন, আবার কেউ ঘর ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানিয়েছেন, "টানা বর্ষণের মধ্যে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।"
লামার মিশনপাড়ায় পাহাড়ের নিচে ও চূড়ায় কমপক্ষে চারশো পরিবারের বাস। প্রতিবছর বর্ষা আসার সাথে সাথে পাহাড়ধসের ভয়াবহতা ফিরে আসে, কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, কত প্রাণ হারালে আমরা নিরাপদ আবাসনের প্রয়োজনীয়তা বুঝব?