সুন্দরবনের কুখ্যাত দস্যু ‘বড় জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে মোংলা বেইসে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করার সময় তারা একটি জিম্মি জেলেসহ আত্মসমর্পণ করেন।
আত্মসমর্পণকারী সদস্যরা হলেন বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার আলামিন হোসেন, সাতক্ষীরা জেলার তালা থানার তৈবুর রহমান এবং খুলনা জেলার কয়রা থানার বাসিন্দা মনিরুজ্জামান মামুন। তারা তাদের ব্যবহৃত দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক, একটি দেশীয় পাইপগান এবং ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ কোস্ট গার্ডের কাছে জমা দেন।
কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র কমান্ডার মো. মানসুরুন মাহ্দীন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, এই সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের অরণ্যে ডাকাতি এবং সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে কোণঠাসা হয়ে তারা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক ও সফল অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের কারণে দস্যুরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হচ্ছে।
এছাড়া, গত ২১ মে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ সুন্দরবনের আরেক কুখ্যাত দস্যু ‘ছোট সুমন’ বাহিনীর ৭ সদস্যও কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল।
কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যু ও ডাকাত বাহিনী নির্মূল করার লক্ষ্যে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না সুন্দরবন সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত হয়।