ইরানে মার্কিন হামলায় নিহত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে জানাজায় অংশ নেওয়া হয়েছে তাঁর পরিবারের আরও চার সদস্যের।
জানাজায় খামেনির তিন ছেলে মাসুদ, মেইসাম ও মোস্তফা উপস্থিত থাকলেও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মোজতবা খামেনি অংশ নেননি। জানাজায় রেকর্ডসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ছিল।
আলি খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনে ইরানিরা প্রতিশোধের অঙ্গীকার করছেন। তেহরানের বাসিন্দারা প্রিয় নেতার শেষ বিদায়ের বিষয়টি এখনও মানতে পারছেন না। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই তারা দলে দলে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় জড়ো হন।
এক নারী জানায়, ‘এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না যে, এখানে আমার নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে এসেছি।’ অন্য একজন নারী বলেন, ‘প্রিয় নেতা প্রয়াত হওয়ার পর থেকে, যখনই তাঁর ছবি দেখি, তখন আমি কান্না ও শোকের মধ্যে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ি।’
স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি জানাজায় ইমামতি করেন। এতে ইরানের প্রেসিডেন্ট, স্পিকার, বিচার বিভাগের প্রধান এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সোমবার রাজধানী তেহরানে এবং মঙ্গলবার পবিত্র শহর কোমে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। পরে আলি খামেনির মরদেহ ইরাকের নজফ ও কারবালা শহরে নিয়ে যাওয়া হবে। বৃহস্পতিবার মরদেহ ফিরিয়ে আনা হবে ইরানের মাশহাদ শহরে, যেখানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় আলি খামেনি নিহত হন। এই বিশাল জমায়েতকে নিজেদের শক্তি ও প্রতিরোধের বার্তা হিসেবে দেখাতে চাইছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।