বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

তিস্তা মহাপরিকল্পনা: ভূরাজনীতির অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে চলছে তীব্র আলোচনা, যা বাংলাদেশের ভূরাজনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা: ভূরাজনীতির অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু

বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের জন্য ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ একটি বিপ্লবী উদ্যোগ হতে পারে। এই প্রকল্পের আওতায় নদীর বুকে গড়ে উঠবে আধুনিক স্যাটেলাইট শহর, পাঁচতারকা হোটেল এবং বিশাল সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্ট।

তিস্তা একটি আন্তর্জাতিক নদী, যা ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়। ভারত তিস্তার ওপর একাধিক বাঁধ নির্মাণ করেছে, যার ফলে বাংলাদেশের কৃষি ও জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পানি আটকে রাখার ফলে কৃষকের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি এসে নদীভাঙন সৃষ্টি করে।

‘কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন অব তিস্তা রিভার প্রজেক্ট’ নামে পরিচিত এই মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো নদী পুনর্গঠন করে ভারতের ওপর নির্ভরতা কমানো। প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। নদী খনন, গাইড বাঁধ নির্মাণ এবং আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে তিস্তার পানির ব্যবস্থাপনা উন্নত করা হবে।

প্রকল্পের জন্য চীন অর্থায়ন এবং কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী। তবে ভারত এই উদ্যোগে আপত্তি জানাচ্ছে, কারণ তিস্তার অবস্থান ভারতের শিলিগুড়ি করিডোরের নিকট। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ, চীন যদি এই প্রকল্পে যুক্ত হয়, তবে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে।

২০২৪ সালে ভারত চীনের অংশগ্রহণ না নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেয়। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন চীনের মাধ্যমে হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তবে তিস্তাপাড়ের সাধারণ মানুষের উদ্বেগ, নদীর পানি নিশ্চিত না হলে এই প্রকল্পের সফলতা প্রশ্নবিদ্ধ। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকারের পরিবর্তন হওয়ার ফলে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন