বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে খুমি পিপল ফোর্স নামে একটি নতুন সশস্ত্র সংগঠনের আনাগোনা বেড়েছে। সংগঠনটি মিয়ানমারের পালেতোয়া টাউনশিপের খুমি ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টির সশস্ত্র শাখা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে চলতি বছর।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আরাকান আর্মির অত্যাচারে টিকতে না পেরে গত দুই মাস ধরে বান্দরবানের রুমা ও থানচি সীমান্তে অবস্থান করছে সংগঠনটির সদস্যরা। এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রথমবারের মতো কেসপাই পাড়া এলাকায় তাদের উপস্থিতি দেখা যায়। এরপর তংব্রাই ডুলু চাঁদ, থানদৈ ও ক্রামচি পাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে তাদের দেখা গেছে।
এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সশস্ত্র দলটি সম্পর্কে বিজিবিকে অবহিত করা হলে তারা অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে কেউ মুখ খুলতে চাইছেন না। পাউপাড়া এলাকার একটি ঝিরিতে সংগঠনের নেতা লা-থোইং খুমিকে দেখা গেছে বলে জানা গেছে।
খুমি পিপল ফোর্স গত ২৫ মে বিজিবিকে একটি চিঠি দিয়েছে, যাতে সীমান্তে তাদের অবাধ চলাচলের অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আরাকান আর্মির অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার জন্য সংগঠনটি গঠিত হয়েছে।
বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকসার খান জানিয়েছেন, সংগঠনটির উপস্থিতি নিশ্চিত না করলেও চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, সীমান্তে কোনো সশস্ত্র গ্রুপের উপস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়।
গবেষক আলতাফ পারভেজ জানান, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর এই ধরনের সশস্ত্র সংগঠনের আনাগোনা নির্ভর করে। তিনি বলেন, ত্রিদেশীয় সীমান্ত এলাকায় গেরিলা দলগুলোর আসা-যাওয়া দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে।
এদিকে, গত এক বছরে বান্দরবান-মিজোরাম ও চীন প্রদেশের ট্রাইজংশন ঘিরে আরও কয়েকটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে বলে জানা গেছে।