তিন মাসের সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক প্রভাব কমানোর লক্ষ্যে কাজ করেছিল। তবে, এই লক্ষ্যগুলোর অর্জন কতটা সফল হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে এই চুক্তি নিয়ে। যুদ্ধ শুরুর আগে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ধারণ করত। মার্কিন দাবি অনুযায়ী, সংঘাতে ইরানের দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, তেহরান এখনো হামলার সক্ষমতা ধরে রেখেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, ইরানের ১৬১টি নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে এবং ৮২ শতাংশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তবুও, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার সক্ষমতা এখনও রয়েছে। সম্প্রতি আইআরজিসি একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে।
ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। তবে গোয়েন্দাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতায় বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা এখনও রয়েছে।
ট্রাম্প যুদ্ধের শুরুতে ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিবর্তনের কথাও বলেছিলেন। কিন্তু, তেহরানের শাসনব্যবস্থা অটুট রয়েছে। হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো দুর্বল হলেও, তাদের প্রতি সমর্থন কমেনি।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধ ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে কিছুটা দুর্বল করেছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও অমীমাংসিত। ট্রাম্প প্রশাসন তাৎক্ষণিক সাফল্যের দাবি করলেও, দীর্ঘমেয়াদে ফলাফল কী হবে, তা আলোচনার টেবিলে নির্ধারিত হবে।